আবু তালেব মুরাদ
সেপ্টেম্বর / ১২ / ২০২২
আবু তালেব মুরাদ: সিলেটে ফুটপাতে এবং রাস্তায় আলোর কারসাজিতে বিক্রি হচ্ছে পচা মাছ। এরই আলোকে গত ৮ এপ্রিল দৈনিক পুণ্যভূমিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় কিন্তু 'যে লাউ সেই কদু' অর্থাৎ ৫ মাস অতিবাহিত হল,সিটি কর্পোরেশন,ভোক্তা অধিকার এমনকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন পদক্ষেপ নজরে আসি নি।বরঞ্চ দেখা যাচ্ছে মানুষকে ঠকানোর ব্যবসা আগের চেয়ে আরও বেশী রমরমা। সোমবার(১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সরজমিনে তালতলা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, বন্দর বাজার সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর দেয়াল ঘেঁষে, ফুটপাতে এবং রাস্তায় মাছ ব্যবসায়ীরা মাছের ওপরে হলুদ রঙের বাতি ব্যবহার করেছেন। সাধারণ ক্রেতাকে ধোঁকা দিতে হলুদ এবং কিছু কিছু জায়গায় লাল বাতি জ্বালিয়ে পঁচা মাছ তাজা দেখিয়ে বিক্রি করছে,ঠিক পঁচা মাছের দুর্গন্ধ ম্যাজিক লাইটের কারনে ক্রেতার নাক পর্যন্ত পৌঁছায় না।কিন্তু বাসায় পৌঁছার পর হায় হায় করতে হয় একজন ক্রেতার। এটা চরম ধোঁকাবাজি।
ব্যবসায়ীরা মাছের ওপরে সবুজ, লাল, অতি উজ্জ্বল ও হলুদ বাতিসহ বিভিন্ন ধরনের বাতি ব্যবহার করেন। এছাড়া একজন মাছ ব্যবসায়ী প্রতিটি পাত্রের উপর দুই থেকে তিনটি করে বাতি জ্বালিয়ে রাখেন। তাতে করে বিভিন্ন আলোর ঝলকানিতে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন।
বন্দরবাজারস্থ লালবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত হোসেন দৈনিক পুণ্যভূমিকে বলেন এই বিষাক্ত মাছ ব্যবসা বন্ধ করার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে কয়েক দফা অভিযোগ করেছি কিন্তু কোন প্রতিকার হয়নি।তিনি বলেন তাদের পেছনে কোন অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে।তিনি বলেন দুঃখজনক হলেও সত্য সিটি কর্পোরেশনের নাকের ডগায় বসে ব্যবসা করছে কিন্তু মেয়র নিরব তাতে আমাদের মনে অনেক সন্দেহ জাগে।এনায়েত হোসেন আরও বলেন এদের কারনে সিলেট মহানগরে মাছের ব্যবসা নষ্ট হওয়ার পথে।তিনি বলেন সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাত না থাকলে কিভাবে সিটি কর্পোরেশনের সামনে ব্যবসা করে।
এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মোঃ জাহেদুল ইসলাম জানালেন আমরা একদিন বন্ধ করি কিন্তু দুইদিন তিনদিন বন্ধ রাখে আবার বসে।তিনি বলেন সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব না সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত ভূমিকা,তাঁরা উদ্যোগ নিলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন কাজির বাজার আড়তের প্রতিদিন যে মাছগুলো বিক্রি হয়না, পঁচে যায় সেগুলো তারা নিয়ে আসে এবং রঙ্গিন লাইট জ্বালিয়ে বিক্রি করে।
একজন ক্রেতা দুঃখের সাথে বললেন মাছ ব্যবসায়ীদের বলেন আমাদেরকে ধোঁকা দিয়ে ব্যবসা না করতে। মানুষ মাছ তাজা ভেবে বাসায় গিয়ে যেন প্রতারিত না হয়। তিনি আরও বলেন আশ্চর্যজনক যে কিভাবে মাছ ব্যবসায়ীরা সিটি কর্পোরেশনের নাকের ডগায় বসে মানুষকে এত বড় ধোকাবাজি দিচ্ছে।তিনি বলেন আমিতো ঠক খেয়েছি কিন্তু অনুরোধ থাকবে অনতিবিলম্বে যেন ধোকাবাজির ব্যবসা বন্ধ করা হয়।
সিলেটের প্রবীন ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতা বলেন, বন্দরবাজার লালদিঘীরপার মাছ ব্যবসায়ীরা চার-পাঁচ ধরনের বাতি মাছের ওপরে জ্বালিয়ে রাখেন। এতে মাছের প্রকৃত অবস্থা বোঝার উপায় থাকে না। এছাড়া যারা মাছ কাটে তারাও ওই ব্যবসায়ীদের সাফাই গায়। মাছ কাটার সময় তারা বলেন, মাছটা কত দিয়ে নিয়েছেন, খুব লাভে মাছ কিনতে পেরেছেন। কিন্তু বাসায় নিয়ে যাওয়ার পরে ধোয়ার জন্য পানিতে দিলে বোঝা যায় মাছের প্রকৃত অবস্থা কী!
সুতরাং সবার চোখের সামনে এত বড় অন্যায় বন্ধ করার জন্য প্রশাসনকে আরও শক্ত ভূমিকা নিতে হবে।
আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, আইনে এই অপরাধে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যায়। কিন্তু আমরা বুঝে উঠতে পারিনা।
প্রকাশ্যে তারা মানুষের জীবন মরন নিয়ে খেলছে।কারন এইসব বাজার থেকে মাছ কিনে খেলে শারীরিক সমস্যা এমনকি মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।