আবীর মো. মুমিত
অগাস্ট / ২৯ / ২০২২
সিলেট জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, আজ থেকে সিলেট জেলায় অবৈধ হাসপাতাল,ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিরুদ্ধে অভিযানে আগামীকাল থেকে অভিযানে নামছেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ। তিনি জানান চলতি বছরের গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া ৪৮ টি প্রতিষ্ঠানে অভিযানে পরীক্ষা নিরিক্ষার পর ২২ টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ার সুপারিশ করা হয় এবং বাকি ২৬ টি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ত্রুটি থাকার কারনে সময়সীমা বেধে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের ভেতরে আরও ১০ টি প্রতিষ্ঠান ত্রুটিমুক্ত হওয়ায় তাঁদের ক্ষেত্রেও লাইসেন্স দেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়।এছাড়াও মোট ১৬ টি প্রতিষ্ঠান ত্রুটিযুক্ত থাকার কারনে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানানো হয় যে, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আজ থেকে সিলেটে অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে অভিযানের পর প্রথম কয়েক দিন লাইসেন্স নবায়ন করার, নতুন লাইসেন্স নেওয়ার যে তোড়জোড় ছিলো। কিন্তু তার গতি এখন ধীর। সেটি সক্রিয় করার জন্য আবার অ্যাকশনে যাচ্ছে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ।
ভোক্তাদের অভিযোগ অ্যাকশন চলমান না হওয়ার কারনে বড় বড় ত্রুটি থাকাতে সাধারণ জনগণ রোগমুক্ত থেকে রোগযুক্ত হচ্ছে বেশী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লাইসেন্স নিয়ে ১৯৮২ সাল থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাপ্রতিষ্ঠান। তবে একবার নিবন্ধন নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান আর তা নবায়ন করেনি। অনেক প্রতিষ্ঠান শুরুতে ১০ শয্যার অনুমোদন নিলেও পরে শয্যা বাড়ালে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানায়নি। অনেকে শয্যার সঙ্গে সংগতি রেখে বাড়ায়নি জনবল। সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে স্বাস্থ্য বিভাগ।এছাড়াও বেশ ক'টি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে পরিলক্ষিত হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
এর আগে গত মে মাসে সিলেটে অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এতে মহানগরীসহ জেলার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়।
এ সময় লাইসেন্স নবায়ন ও কাগজপত্র ঠিক করার শর্তে অভিযান কিছুটা শিথিল করা হয়েছিলো। তবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সব শর্ত এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান মানেনি। তাই আবারো অভিযানে নামছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।