আবীর মো. মুমিত
সেপ্টেম্বর / ১১ / ২০২২
আবীর মোঃ মুমিত: যে কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয় দেশে মাত্রাতিরিক্ত সিএনজি চালিত অটোরিক্সার শহর কোনটি-উত্তর আসবে সিলেট, যদি প্রশ্ন করা হয় কোন জেলায় সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া অত্যধিক এবং যাত্রীর সাথে চালকের দুর্ব্যবহার প্রতিনিয়ত-উত্তর পাওয়া যাবে সিলেট।
এই অতিরিক্ত সিএনজি অটোরিকশা যাকে অনেকে বলতে শোনা যায় সবুজ বাহিনী,যার কারণে সিলেট মহানগরীতে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত যে ট্রাফিক জ্যাম এবং ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য এ প্রসঙ্গে গত ৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক পুণ্যভূমিতে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ নজরে আসে এসএমপির ট্রাফিক বিভাগের। সংবাদে উল্লেখ ছিল শহরের কোন কোন পয়েন্টে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ম না মেনে যাত্রী উঠানো-নামানোর কারনে ট্রাফিক জ্যামের মূল কারণ তারই সূত্র ধরে রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: ফয়সাল মাহমুদ এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। সে সময় তিনি বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য দৈনিক পুণ্যভূমিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন আমরা বিভিন্ন পয়েন্টে সরজমিনে গিয়ে লোকাল সিএনজির চালকদের নির্দেশ প্রদান করেছি যে আপনারা পয়েন্টে না থেমে সামনে গিয়ে যাত্রীদের উঠান নামান।কারন পয়েন্টে থামালে প্রচুর যানজটের সৃষ্টি হয়। ফয়সাল মাহমুদ বলেন কিছু কিছু চালকদের সাধারণ জ্ঞানের অভাব পরিলক্ষিত হওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে। তিনি বলেন সিলেট শহরে সিএনজি অটো রিক্সা সহ শহরের বেশ কোটি সমস্যা সমাধান না করলে যানজট থেকে জনগণ মুক্তি পাবে না তা নিরসনের ক্ষেত্রে মহানগর পুলিশের একটি পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সত্যিকার অর্থে সিলেট মহানগরী দেশের মধ্যে অন্যতম অপরিকল্পিত একটি শহর। বহু আগে প্রকৌশলী মরহুম জামিলুর রেজা চৌধুরীর প্রদত্ত প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে সিলেট রূপ পাল্টে যেত।
নগরীর সব থেকে বেশি ট্রাফিকজ্যাম হয় লামাবাজার, সোবহানীঘাট, পেপার পয়েন্ট লালবাজার-করিমউল্লাহ মার্কেটের সামনে, পোস্ট অফিসের সামনে, মিরবক্সটুলা, শিবগঞ্জ, মেন্দিবাগ পয়েন্ট, জার, জিতুমিয়ার পয়েন্ট, আম্বরখানা।
সিলেট শহরের কোথাও পাবলিক পার্কিংয়ের সুবিধা নাই। শুধু মাত্র মার্কেটগুলোর আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং দিয়ে সিলেটের পার্কিং চাহিদা পুরন করা অসম্ভব,আবার কোন কোন মার্কেটে আন্ডার গ্রাউন্ডেরও ব্যবস্থা নাই। বন্দর বাজারে যে জ্যাম হয় তার অন্যতম কারণ অবৈধ পার্কিং। যারা গাড়ি নিয়ে লাল বাজারে বাজার করতে আসেন তারা গাড়ি রাখার জন্য কোনো পার্কিং সুবিধা না পেয়ে বাজারের সামনেই গাড়ি রেখে দেন। তখন অন্যান্য গাড়ি চলাচল করতে সমস্যা হয়।
রাস্তার মোরে মোরে বিভিন্ন রকম গাড়ির স্ট্যান্ড। বিশেষ করে দুর্গাকুমার পাঠশালার সামনে সিএনজি অটোরিকশার ও লেগুনা স্ট্যান্ডগুলো এই যানজটের প্রধান কারণ।
বন্দর বাজারের সব থেকে বড় সমস্যা হকার। বিকাল হওয়ার সাথে সাথে মহাজনপট্টি থেকে শুরু করে সুরমা পয়েন্ট অর্থাৎ ক্বীন ব্রীজের মোড় পর্যন্ত হকাররা রাস্তা দখল করে রাখে। এতে করে যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নত হয়।
সিলেটের বেশিরভাগ জ্যামের জন্য দায়ি কয়েকটা প্রতিষ্ঠান। যেমন জিন্দাবাজার এবং জল্লারপারের পাঁচ ভাই ও পানসী রেস্টুরেন্ট, স্কলার্স হোম,শাহী ঈদগাহ ও সাপ্লাই রোডের ট্রাফিক জ্যামের একমাত্র কারণ। স্কুল শুরু এবং ছুটির সময় অভিভাবকগণ তাদের গাড়ি নিয়ে আসেন। সরু রাস্তার দুই পাশে সাইড করে রাস্তাটা মোটামুটি বন্ধ করে দেন। প্রসঙ্গত স্কলার্স হোম শাহী ঈদগাহ এর পাশে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সহ বেশ ক'টি হাসপাতাল রয়েছে, আনন্দ নিকেতন এবং রাইজ একাডেমী ঘণ্টা খানেক সময় জ্যামের সৃষ্টি করে সুবিদ বাজার থেক পাঠানটুলা পর্যন্ত। ব্লু-বার্ড মিরের ময়দান রোডে সমস্যার সৃষ্টি করে, রিকাবী বাজার থেকে মেডিকেল রোড খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। কিন্তু রাস্তার দুই পাশে অগণিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার কোনো রকম পার্কিং সুবিধা না করে গড়ে উঠেছে। যার ফলে রাস্তার দুই পাশে গাড়ি পার্কিং করে রাখার কারণে জ্যামের সৃষ্টি হয়।
অপরিকল্পিত ভাবে তৈরি করা মার্কেট গুলোর বেশির ভাগের পার্কিং সুবিধা না থাকার কারণে মার্কেটে আশা গাড়িগুলো রাস্তায় রেখে চলে যায়। এতে আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক মার্কেট তাদের পার্কিংয়ের স্থানে রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলেছে। সিটি কর্পোরেশন সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
সব কথার শেষ কথা আমাদের সচেতন হতে হবে পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।