আবীর মো. মুমিত
সেপ্টেম্বর / ২৬ / ২০২২
প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবী
আবীর মো. মুমিত: গ্রাহকদের পলিসির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ‘হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড’-এর ৭ পরিচালককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিলেট ও লন্ডনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের ‘হোমল্যান্ড লাইফ’-এর প্রধান কার্যালয় থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সকলেই বিলেতের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সকলেই সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং ব্রিটিশ নাগরিক।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- কোম্পানির ভাইস-চেয়ারম্যান জামাল মিয়া, পরিচালক যথাক্রমে আব্দুর রব, কামাল মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল আহাদ, জামাল উদ্দিন মখদ্দুস ও আব্দুল হাই। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান জামাল মিয়া ও পরিচালক কামাল মিয়া সহোদর। তাদের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। পরিচালক আব্দুল আহাদ ও আব্দুল হাইও সহোদর। তাদের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলায়। পরিচালক জামাল উদ্দিন মখদ্দুস সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মন্ডলপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা। অপর পরিচালক আব্দুর রবের ঠিকানা জানা যায়নি।
গ্রেফতারকৃত সকলই ব্রিটিশ নাগরিক এবং বাংলাদেশ ও লন্ডনে তাদের অনেকগুলো সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরাসহ ফয়জুল হক নামের আরেক ব্যবসায়ীসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি খুলনা বিভাগের মাগুরার আদালতে পৃথক ৪ টি মামলা দায়ের করা হয়। সিআর মামলা নং-২২৭/২২,২২৮/২২,২২৯/২২,২৩০/২২। ধারা নং ৪০৬ ও ৪২০ দন্ডবিধি। মাগুরা জেলার সদর উপজেলার মৃত সৈয়দ বেলায়েতের পুত্র সৈয়দ মোফাক্কার আলী, একই উপজেলার বুধইরপাড়ার মৃত ধলা বিশ্বাসের পুত্র মো. আজর আলী, ওই উপজেলার ছয়চার গ্রামের মৃত সাদেক আলী মোল্লার পুত্র মো. নায়েব আলী ও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার কালিয়াগঞ্জ উপজেলার সড়াবাড়ীয়া গ্রামের মো. নওশের আলীর পুত্র মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে এ সকল মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাগুলো আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন
গ্রেফতারের সংবাদটি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলেও বিলেতের গনমাধ্যমকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য সচেতন মহলের আহবান।
গ্রেফতার হওয়া জামাল উদ্দিন মকদ্দুস নিজ এলাকায় একজন দানশীল ব্যক্তিই নন এলাকার শিক্ষা বিস্তারে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ছাতক থানার নিজ গ্রামে জামাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরে অদূরে ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কের তিনি অন্যতম উদ্দ্যোগতা পরিচালক।
গ্রেফতার হওয়া পরিচালকদের সবাই যু্ক্তরাজ্য প্রবাসী হলেও
তাদের মধ্যে জামাল মিয়া ও কামাল মিয়া এবং আবদুল আহাদ ও আবদুল হাই পরস্পর সম্পর্কে আপন ভাই।বিষয়টি আমার নজরে আসার পর পরই আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে এজন্যে যে বিলেত এবং বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত এমন ৭ ব্যবসায়ীকে কি কারনে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল তার ও কোন যুক্তি সঙ্গত কারন জানা যায়নি । মতিঝিল থানা সূত্র জানিয়েছে মাগুরায় দাঁয়ের কৃত একটি মামলায় তাদের কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।যে কারনে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ।
খোঁজ খবর নিয়ে যে টুকু জানা গেছে হোমল্যান্ডের মধ্যেকার নানা অনিয়মের ব্যাপারে এসব প্রবাসী পরিচালকরা সোচ্চার হলে তাদেরকে শায়স্তা করতেই সাজানো মামলা দায়ের করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।এমন ভাবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে যাতে উইক এন্ড সামনে থাকায় তাদের জেলহাজতে থাকতে হয় ক’দিন। সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে নানা উদ্দ্যোগ নেন কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো দেশে বিনিয়োগ করে সম্মানিত প্রবাসীরা যখন নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হন তখন কিন্তু এসবের কোন প্রতিকার নেই। এই ঘটনাটি তারই প্রমান।
কোম্পানির যে কোন অনিয়মের দায় ভার প্রথমত কোম্পানী যারা ডে টু ডে পরিচালনা করেন যেমন চেয়ারম্যান, এমডি, জিএম, তাদের ঘাড়ে বর্তায় কিন্তু হোমল্যান্ডের বেলায় কেন এমন ব্যতিক্রম যার কারনে কোম্পানীর শুধু মাত্র ৭ জন প্রবাসী পরিচালককে গ্রেফতার করা হলো ? যা রীতিমতো রহস্য জনক।
হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অভ্যন্তরে নানা অনিয়মের ব্যাপারে এসব প্রবাসী পরিচালক সোচ্চার থাকায় তাদেরকে শিক্ষা দিতে এই মামলার আয়োজন করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ও নতুন দিন সম্পাদক মহিব চৌধুরী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, ব্রিটিশ-বাংলাদেশীরা মাতৃভূমির টানেই এখানে বিনিয়োগ করেন। তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ রাখার দায়িত্বও সরকারের। এসকল প্রবাসীর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। কারণ সাধারণত কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হলে এর চেয়ারম্যান, এমডি-জিএমের বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকে। কিন্তু এ ঘটনায় এরকম কিছুই নেই। এতে ঘটনার ব্যাপারে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্য উদঘাটন করে মূল ঘটনা বের করতে তিনি দাবি জানিয়েছেন। মহিব চৌধুরী বলেন তাতে করে প্রবাসে নতুন প্রজন্ম দেশে বিনিয়োগের প্রতি বিমুখ হবে।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীদেরকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও দেশে বিনিয়োগ করে প্রবাসীরা অনেক সময় হয়রানির শিকার হন। হোমল্যান্ড লাইফের এই ঘটনাটি এর জ্বলন্ত প্রমাণ। গ্রেফতারকৃতরা বিলেতে ও সিলেটের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সম্মানিত ব্যক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ তারা টাকা আত্মসাত ও প্রতারণার মামলায় জেল হাজতে। এটি লন্ডন প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্তদের আসামী না করে ৭ জন প্রবাসী পরিচালককে গ্রেফতার নিয়ে প্রবাসীদেরকে সোচ্চার হবার পরামর্শ দেন। তিনি এ ঘটনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃংখলা বাহিনীর দৃষ্টি কামনা করেন।