আবীর মো. মুমিত
সেপ্টেম্বর / ৩০ / ২০২২
আবীর মোঃ মুমিত: ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুর রহমান লস্কর বলেছেন, সচেতনতাই হৃদরোগ থেকে বাঁচতে আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের লাইফস্টাইলকে সুশৃঙ্খল করতে হবে।হৃদযন্ত্র ভালো থাকলে একজন মানুষের সুন্দর জীবন যাপন করা সম্ভব,তাই প্রয়োজন সচেতনতা।
শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মাউন্ট এডোরা হসপিটাল আয়োজিত ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. লস্কর আরো বলেন, কারো বুকে ব্যথা হলে এটাকে অবহেলা কিংবা গ্যাস্টিকের ব্যথা মনে করে কাল ক্ষেপেন করা উচিত নয়।এ ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে এবং যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের চীফ কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. মো. মতিউর রহমান।
বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২২ এর প্রতিপাদ্য বিষয় " হৃদয় দিয়ে হৃদর কে ভালো বাসুন, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করুন"।
মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের মেডিকেল সার্ভিসেস এর পরিচালক ডা.সৈয়দ মাহমুদ হাসান এর পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন- অধ্যাপক ডা. কে এম আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. মুহম্মদ শাহাবুদ্দীন, অধ্যাপক ডা. শিশির বসাক।
কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ডা.সাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন মানবদেহের রক্তচাপ সাধারণত ১২০/৮০। এর চেয়ে বেশি হয়ে রক্তচাপের পরিমাণ ১৪০/৯০ থাকলে প্রথমে জীবন যাত্রার মান পরিবর্তনে আনতে হবে।আর যদি রক্তচাপ না কমে তাহলে চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। তেমনি রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলেও সেটার চিকিৎসা নিতে হবে।ডা.সাহাবুদ্দিন বলেন- সতর্কতা হিসাবে ভাত খাবার সময় লবণ বাদ দিতে হবে। ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে। স্ট্রেস কমাতে হবে। ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে হলে সবার ডায়াবেটিস, কোলস্টেরল পরীক্ষা করতে হবে। অন্যদের বেলায় বিশোর্ধ্ব হলে, স্থুলকায় হলে, বংশে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস, ব্লাড প্রেশার বেশি থাকলে এগুলো পরীক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবন-যাপন যেমন, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করা, ফাস্টফুড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, ধূমপান না করা, নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ডা.আখতারুজ্জামান বলেন,আমাদের অসচেনতার কারনে অনেক সময় হৃদরোগ সংক্রান্ত ভয় কম-বেশি অনেকের মধ্যে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যস্ত জীবনযাত্রা, শরীরচর্চায় অবহেলার জন্য সবাই হৃদযন্ত্রের সমস্যার সম্ভবনায় ভুগছি। তিনি বলেন আমাদের নানা ভুল সিদ্ধান্ত ও অজ্ঞতা এই অসুখের মূল কারণ।প্রফেসর ডা.আখতারুজ্জামান বলেন, এমন কিছু সাবধানতা মেনে চললে সহজেই এই অসুখ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। সেই সাথে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
কার্ডিওলজিস্ট ডা.শিশির বসাক বলেন আমিষ জাতীয় খাবারের বড় উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, বাদাম, কিছু কিছু শস্যদানা, ফলমুল, সবজি, বিভিন্ন ধরনের ডাল জাতীয় শস্য ও সয়া বীজ।
তিনি বলেন খাবারের মধ্যে দিয়ে শরীরে যে প্রতিরোধ ক্ষমতা আমরা অর্জন করি, তাকে অবহেলা করা উচিৎ নয়। হার্টের যতেœ খাবারদাবার নিয়ে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। হার্টের কার্যকারিতা বাড়াতে ও হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে কিছু কিছু খাবার অবশ্যই প্রতিদিনকার ডায়েটে রাখা উচিত। ডা.শিশির বসাক বলেন এসব খাবারের পাশাপাশি শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটিও করতে হবে। খাবার ও শরীরচর্চা একে অন্যের পরিপূরক।
সেমিনারে অংশগ্রহন করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বৃন্দ।
সেমিনারে বক্তাগন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
তারা এ ধরণের জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান তৃনমূলে ছড়িয়ে দেবারও আহ্বান জানান।