নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর / ০৫ / ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এর কুশিঘাটে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের অব্যবহৃত ৫৩৫টি পানির ফ্লু মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যপারে হযরত শাহপরান (রহ.) থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডিতে সন্দেহভাজন কারো নাম উল্লেখ না থাকলেও ঘটনা জানার পরপরই সাময়িক বরখাস্ত করা হয় পাম্প অপারেটর হাসান মাহমুদ মাসুম, সুজেল আহমদ ও লিটন আহমদকে।
এছাড়া এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয় আট অস্থায়ী শ্রমিককে। চাকরিচ্যুত হওয়া ৮ জন হলেন- জহুরুল ইসলাম মোহন, শফিকুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন, আব্দুল হক ইমন, আব্দুল্লা আল সোহাগ, প্রশান্ত দাশ শান্ত, জনি চক্রবর্তী, আব্দুল মুতলিব ও আব্দুল মিয়া।
তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুতির কথা বলা হলেও এখনো সবাই যার যার কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানায় সিসিকের একাধিক সূত্র। যদিও এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলতে নারাজ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
সেই সাথে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছেন।
এসএমপির হযরত শাহপরাণ (রহ.) থানায় জিডি প্রসঙ্গে দৈনিক পুণ্যভূমিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান। তিনি বলেন- "মিটার চুরির ঘটনায় জিডি হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি"। এক প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন সিসিকের জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ফ্লু মিটার কুশিঘাটে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে রাখা ছিল, আমরা এখন তা খুঁজে পাচ্ছিনা, তিনি বলেন সিসিকের আভ্যন্তরীণ তদন্তের পর মামলা করবেন কি করবেন না সিদ্ধান্ত নিবেন তারা।
জানা যায়- সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার কুশিঘাটে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা দামের ৫৩৫টি ফ্লু মিটার রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ গুলো ম্যানুয়াল হওয়ায় ব্যবহার করা যায়নি। এমতাবস্থায় ৫০টি ফ্লু মিটার উত্তোলনের প্রয়োজন পড়লে সেখানে সংশ্লিষ্টরা গিয়ে দেখেন কোনো মিটারই গোডাউনে নেই। এনিয়ে সিসিক কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব অবহেলায় ৮ কর্মচারীকে বরখাস্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ করেন। সিসিকের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান বাদি হয়ে এসএমপির হযরত শাহপরাণ (রহ.) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
মিটার চুরির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আকবর। তিনি জানান- আমাদের কুশিঘাট ভান্ডার হতে ৫৩৫টি ফ্লু মিটার পাওয়া যাচ্ছে না, আলী আকবর বলেন, এ ঘটনায় ১ জন স্থায়ী কর্মচারীকে সাময়িক ও ৭ জন অস্থায়ী কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রদান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিভাবে কি হলো তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তা জানা যাবে তবে ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আলী আকবর আরও বলেন, বর্তমানে যেসব ফ্লু মিটার ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো অটোমেটিক। আর যেসব ফ্লু মিটার পাওয়া যাচ্ছে না সেগুলো ম্যানুয়াল ছিল। ফলে এসব মিটার ব্যবহার করা হতো না।