আগামী নভেম্বরের মধ্যে সারদা হল ও পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার খুলে দেয়া হবে : মেয়র আরিফ

আবু তালেব মুরাদ

সেপ্টেম্বর / ২০ / ২০২২

আগামী নভেম্বরের মধ্যে সারদা হল ও পীর হাবিবুর রহমান পাঠাগার খুলে দেয়া হবে : মেয়র আরিফ
ad-spce

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ

আবু তালেব মুরাদ: মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সিলেটের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের স্মারক সারদা স্মৃতি ভবন (সারদা হল) সংস্কৃতিচর্চার জন্য দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট।

সংগঠনের ৩৮ বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ আয়োজন ও উৎসব না করে সারদা হল রক্ষার্থে গতকাল বিকালে সারদা হল প্রাঙ্গণে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,আগামী নভেম্বর এর মধ্যে সারদা হলকে পরিস্কার করে নতুনভাবে চালু করা হবে পাশাপাশি পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার চালু হবে।মেয়র বলেন যে কোন ঐতিহ্য বা কারো নাম মুছে ফেলাটা কোনভাবে কাম্য নয়।মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী শিক্ষা সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সিসিক থেকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ নিয়ে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ  সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত প্রতিবেদককে বলেন,৮৬ বছরের দীর্ঘ ঐতিহ্যের স্মারক সারদা হল।দেশে বিদেশের অনেক গুনী জনদের পদার্পণ, কিন্তু দুঃজনক হলেও সত্য দীর্ঘ একযোগ ধরে এই হলটি সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে বিমুখ।  এই হলটি একজন ব্যক্তি সংস্কৃতি চর্চার জন্যই নির্মাণ ও দান করেছিলেন। এই ভবনকে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অনৈতিক। তিনি বলেন এ ছাড়া এটি সিলেটের একটি ঐতিহ্যবাহী ভবন। এটি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।তিনি বলেন সিসিকের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মীদের জানিয়েছেন আগামী নভেম্বর ২০২২ এর মধ্যে হলটি সম্পুর্ন পরিস্কার করে দেবেন।    

উল্লেখ্য দীর্ঘদিন ধরে এই ভবনটি সংস্কার করে পুরো এলাকা নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স করার দাবি জানিয়ে আসছে সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিক । সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপির কাছেও এ দাবি জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দাবির সঙ্গে একমতও পোষণ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সিসিকের মেয়রের কাছে ডিও লেটারও (সরকারি বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক পত্র) দিয়েছেন। তবে তাতেও কোনো কাজ হয়নি। সংস্কৃতি কর্মীরা বলেন সিসিক মেয়র নানা অজুহাতে এ ব্যাপারে কেবল সময়ক্ষেপণ করেই চলছেন। বারবার দাবি জানিয়েও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই এবার আন্দোলনে নেমেছেন তারা ।

বলাবাহুল্য সুরমা নদীর পাড় ঘেঁষেই সারদা স্মৃতি ভবন(সারদা হল)। ৮৬ বছর আগে কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের আদলে সারদা স্মৃতি ভবন নামের এ মিলনায়তন নির্মিত হয়। এরপর থেকেই নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় এখানে মঞ্চ মাতাতেন শিল্পীরা। তবে এখন মঞ্চে আলো জ্বলে না, মিলনায়তনে শোনা যায় না শিল্পীদের দরাজ কণ্ঠ। দীর্ঘদিন সংস্কারহীনতার কারণে এমন অবস্থা বলে সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ।

সিলেট নগরের কিনব্রিজ-সংলগ্ন এলাকায় ৩৯ শতক জায়গাজুড়ে সারদা স্মৃতি ভবনের অবস্থান। স্বদেশি আন্দোলনের নেতা, আইনজীবী, শিক্ষানুরাগী ও চা-ব্যবসায়ী সারদাচরণ শ্যামের (১৮৬২-১৯১৬) স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর ছোট ভাই বিমলাচরণ শ্যাম মিলনায়তনটি স্থাপন করেন। ১৯৩৬ সালের ২০ জানুয়ারি মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন ভারতের আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্নর স্যার মাইকেল কিন। মিলনায়তনের নাম ‘সারদা স্মৃতি ভবন’ হলেও এটি সারদা হল নামেই পরিচিতি পেয়েছে।

সংস্কৃতিকর্মীরা জানান, সে সময়ে সারদা হল তৈরিতে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এর পুরো টাকাই দিয়েছিল শ্যাম পরিবারের পরিচালনাধীন ইন্দেশ্বর টি অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড। নির্মাণসামগ্রী কলকাতা থেকে জাহাজে করে সিলেটে আনা হয়েছিল। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে মিলনায়তনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। ২০০৫ সালের ২৮ মে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় মিলনায়তনের মূল অবকাঠামো ও অবয়ব ঠিক রেখে সিলেট জেলা পরিষদ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। সংস্কার শেষে ২০০৬ সালের ১ এপ্রিল ভবনের উদ্বোধন হয়। এর কয়েক বছর পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মিলনায়তনটি আবার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সিটি করপোরেশন এ মিলনায়তনের তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে আছে।

ব্যবহার না হওয়ার কারনে ভবনের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। দেয়ালে জমেছে শেওলা। ফাটল তৈরি হয়েছে পিলার ও দেয়ালে। বিকল হয়ে আছে বৈদ্যুতিক বাতি। সিটি করপোরেশনের পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারের কয়েক হাজার বই মিলনায়তনের ভেতরে তাকে থরে থরে সাজিয়ে রাখা। আরেক পাশে বৈদ্যুতিক বাতি স্তূপাকারে রাখা আছে।বাইরে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গাড়ী পার্কিং সহ লোহা-রডের স্তুপ। 

এই মিলনায়তনের ভেতরে কাঠের পাটাতনের ওপর যে মঞ্চ ছিল, সেটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘ক্ষীরোদ মেমোরিয়াল স্টেজ’। এই ক্ষীরোদ চন্দ্র দেব ছিলেন সারদাচরণ শ্যামের মেয়ের জামাই। তিনি একজন নাট্যকর্মী এবং ‘সারদা স্মৃতি ভবন’ নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। সিলেটের প্রথম সংস্কৃতিমঞ্চটি ঐতিহাসিক কারণেই সংস্কার করে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশিষ্ট জনদের মতে সারদা হল পুনরুদ্ধার হলে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক  রজত কান্তি গুপ্তের পরিচালনায় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন, প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল-আজাদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, রকিবুল ইসলাম ঝলক, সৈয়দ তৌফিকুল হাদি, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোকাদ্দেছ বাবুল, সাংস্কৃতিক সংগঠক শামসুল বাছিত শেরো, নিরঞ্জন দে যাদু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম সেলিম, সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা সিলেট বিভাগের সাধারন সম্পাদক নিলাঞ্জনা যুঁই, পরিবেশ আন্দোলনের নেতা আব্দুল করিম কিম, সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি ফরিদ আহমদ, ইমজা সিলেটের সভাপতি মইনউদ্দিন মনজু।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুনির্মল কুমার দেব মীন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি এ কে শেরাম, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রানা কুমার সিন্হা, উদীচী সিলেট’র সভাপতি এনায়েত হাসান মানিক, নাট্য পরিষদের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মনির হেলাল, বিভাষ শ্যাম যাদন, প্রিন্স সদরুজ্জামান, নিলাঞ্জন দাস টুকু, সাংস্কৃতিক সংগঠক খোয়াজ রহিম সবুজ, উজ্জল দাস, সঙ্গীতশিল্পী অনিমেষ বিজয় চৌধুরী, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ আশরাফুল আলম নাসির, ইনোভেটর’র সমন্বয়ক প্রভাষক প্রণব কান্তি দেব, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের নির্বাহী সদস্য তনু দীপ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সাইমুম আনজুম ইভান, নাট্য পরিষদের কার্যকরী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় দেব শান্ত, নির্বাহী সদস্য ফারজানা সুমি, দিবাকর সরকার শেখর প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

সাংস্কৃতিক সমাবেশে অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন, উদীচী সিলেট, থিয়েটার বাংলা, থিয়েটার মূরারীচাঁদ, নৃত্যশৈলী, সঙ্গীতশিল্পী পল্লবী দাস মৌ।

ad-spce

সিলেট

ad-spce

সর্বশেষ আপডেট

সেতুবঞ্চিত হাজার হাজার মানুষের মুখে অবশেষে হাসি ফুটালেন এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ইউকে কর্তৃক এনএইচএফএস হাসপাতালে যাকাতের চেক প্রদান

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

রাতে ৫ বিভাগে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

প্রখ্যাত সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের ৫ ম মৃত্যুবার্ষিকী ১০ এপ্রিল শুক্রবার

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির শনিবার সিলেট আসছেন

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ভিসা নিয়ে এবার সুখবর দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

গণপরিবহনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ভাড়া প্রদর্শন করা হবে : সড়ক মন্ত্রী

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

দেশের রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে : রেলপথ মন্ত্রী

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ষাট বছর বয়সি কিংবা এর ঊর্ধ্বে ব্যক্তিরা প্রবীণদের আওতাধীন, সমাজে তাদের অবস্থান সর্বাপেক্ষা উঁচুতে : মোঃ সারওয়ার আলম

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ad-spce