পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও প্রশাসনের
অনুমতি ছাড়াই অবৈধ ভাবে প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে শতাধিক পাথর ভাঙ্গার
ক্র্যাশার মেশিন। এতে করে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগের শিকার
হচ্ছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্ধারা।
এদিকে,স্থানীয়
প্রভাবশালী চক্র ক্র্যাশার মেশিন চালিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও
সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এরপরও কোনো পদক্ষেপেই নিচ্ছে না
স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হলেও পরিবেশবাদী সংগঠন গুলোও এই
বিষয়ে কোন ভূমিকাই রাখছেন না বলে সচেতন মহল সহ সর্বমহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খোজ
নিয়ে জানাযায়,নদী কেন্দ্রিক এই ব্যবসা সহজ হওয়ায় উপজেলার
পাঠলাই,রক্তি,বৌলাই ও যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী ৫-৭টির স্পটে চলছে ক্র্যাশার
মেশিন নামক যন্ত্র দানবের তান্ডব। প্রভাবশালীরা লাভবান হলেও সরকার হারাচ্ছে
কোটি টাকার রাজস্ব।
নদীর তীরবর্তী হওয়ায় মেশিনে পাথর
ভাঙ্গার প্রকট শব্দ হওয়ার কারণে ঘুমাতে পারেন না এলাকাবাসী আর নিজ নিজ ঘরে
পড়ালেখার বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও মেশিনের ঝাকুনিতে ভেঙ্গে
যাচ্ছে নদীর পাড়ের বাড়িঘর।
আরও
জানাযায়,জেলার তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বড়ছাড়া,চারাগাও, বাগলী শুল্ক
ষ্টেশন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে আনা চুনাপাথর আনা হয়। পরে নৌকা
দিয়ে নিয়ে আসা হয় জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়ন ফাজিলপুর,
আনোয়ারপুর
বাজার,বাদাঘাট ইউনিয়নের মিয়ারচড়,লাউড়েরগর,উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নেও কয়েকটি
এলাকায় মেশিন চলছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়।
এসব
চুনাপাথর ক্র্যাশার মেশিন দিয়ে ভেঙ্গে ৩ ফোর সাইজ, ১৬ মিনি সাইজ, হাফ
ইঞ্চি, ১৬ মিনি, পাইভটানসহ বিভিন্ন সাইজ করে রাজধানী ঢাকা,বরিশালসহ দেশের
বিভিন্ন স্থানে চাহিদা অংশ বিক্রি করা হয়।
স্থানীয়
বাসিন্ধারা জানান,মেশিন যখন চালানো হয় তখন বাজারসহ আশপাশ এলাকায় প্রচন্ড
শব্দের পাশাপাশি ঝাকুনি শুরু হয়,শব্দে রাতে ঘুমানো যায় না। সন্তানদের
পড়ালোখার সমস্যা হয়। নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই যখন মনে চায় তখনেই মেশিন
চালানোর কারনে আমরা কষ্টে আছি।
ব্যবসায়ী
জানান,যতগুলো ক্র্যাশার মেশিন চলছে সব অবৈধ। এদের পরিবেশের ছাড়পত্র নেই,
সরকারি কোন অনুমোদন নেই। কেউ দলীয় প্রভাব বিস্তার করে কেউবা প্রশাসনের
অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ক্র্যাশার মেশিনের তান্ডব চালাচ্ছে। এগুলো
বন্ধের দাবী জানাই।
ক্র্যাশার
মেশিন ব্যবসায়ীরা জানান,ক্র্যাশার মেশিনের ব্যবসা দীর্ঘ দিন ধরেই চলছে।
কারোই কোনো অনুমোদন নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই। চাপ দিলে আমরা
সবাই মিলে অনুরোধ করে চালাচ্ছি। আর পরিবেশের ছাড়পত্র নেই, সরকারি কোন
অনুমোদন আনতে গিয়ে অনেক ঝামেলা তাই কেউ কেউ অনুমোদনের জন্য গেলেও হয়নি।
পরিবেশ
আইনবিদ সমিতির(বেলা)সুনামগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক জসিম উদ্দিন বলেন,নদীর তীরে
ক্র্যাশার মেশিন স্থাপন করা পাথর ভাঙ্গা সম্পূর্ণ অবৈধ। এদের কোন বৈধতা
নেই। খুব দ্রুতই এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তাহিরপুর
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান,উপজেলায় ক্র্যাশার মেশিন
চলছে এগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।