দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
অক্টোবর / ১৩ / ২০২২
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৫ দিন। আগামী সোমবার ( ১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। তবে এ নিয়ে প্রার্থীরা যেমন প্রচারনার কমতি রাখেনি,তেমনি প্রার্থীর সমর্থকরা। এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ও দেখা যাচ্ছে নির্বাচনি প্রচারনার আমেজ। তবে কে হচ্ছেন এবারের জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, তা যদিও নির্বাচনের আগে বলা সম্ভব হয়নি,তবে ভোটারদের আনা গোনায় কিছুটা হলেও আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ব্যারিষ্টার এনামুল কবির ইমন এর বড় ভাই। এছাড়াও তিনি স্থানীয় আওয়ামীলীগের একটি বলয়ের।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক জেলাপরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট। তিনি ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের একটি বলয়ের নেতৃত্বদানকারী।
জেলা পরিষদের ওই নির্বাচন উপলক্ষে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার গোঁপন জরিপে বলে দিচ্ছে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পথে নুরুল হুদা মুকুট।
ভোটাররা বলছেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন সবার কাছে পরিচিত, ইমনের মতো সাধারন মানুষদের, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাথে তেমন একটা পরিচিতি নেই রুমেনের। তাই তারা এই পথ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।
তবে কোন কোন ভোটার বলছেন,
এডভোকেট খায়রুল কবির রুমেনের জায়গায়- যদি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন প্রার্থী হতেন তাহলে তারা তাকে নির্বাচিত করতে দ্বিধাবোধ করতেন না।
এদিকে নুরুল হুদা মুকুট যেনো সবার মুখে মুখে হাওয়ায় ঘুরে বেড়ানো এক নাম,ছাতক-দোয়ারাবাজারের সকল ইউপি চেয়ারম্যানগন যেমন মুকুটের সাথে ব্যাক্তিগত ভাবে পরিচিত,তেমনি ইউপি সদস্য ও সাধারন মানুষের। ভোটাররা বলছেন যার সাথে তাদের পরিচয় আছে,ঘনিষ্ঠতা রয়েছে তাকেই নির্বাচিত করবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিষ্টার এনামুল কবির ইমন বিপুল ভোটের ব্যবধানে আলহাজ্ব নুরুল হুদা মুকুটের কাছে পরাজিত হয়েছিল। গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত হয়ে এবার তিনি আর দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাননি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের লোকজনের সাথে আলোচনায় আরোও উঠে আসে গত ইউপি নির্বাচনে সুনামগঞ্জ জেলায় নৌকার ভরাডুবির কারণ। দলীয় প্রার্থীদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে নৌকা প্রতিক বরাদ্দ দেয়ারও গুঞ্জন রয়েছে।
অন্যদিকে, ছাতক-দোয়ারাবাজারের ভোটারদের ভাষ্যমতে নুরুল হুদা মুকুটের রয়েছে বিরাট ভোট ব্যাংক। এই পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে যৌক্তিক কারণেই আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর চেয়ে নুরুল হুদা মুকুটের বিজয়ের পাল্লা ভারী বলে অভিমত প্রকাশ করেন তারা । দলীয়ভাবে বিএনপি নির্বাচন না করায় বিএনপির সমর্থিত ভোটাররা ও আওয়ামীলীগের সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিতে,নির্বাচিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ভোটারদের এমন আনাগোনার জরিপে উঁঠে এসেছে এবারও নির্বাচিত হওয়ার পথে নুরুল হুদা মুকুট।