সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
অক্টোবর / ১১ / ২০২২
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে তিন টিকিট কালোবাজারি কে আটক করেছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রেলওয়ে স্টেসনসহ শহরের আধুনিক বাণিজ্য কেন্দ্র প্লাজা সুপার মার্কেটে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক তিনজন হলো শহরের হাতিখানা ক্যাম্পের মৃত শফিকের ছেলে রেল স্টেসনের কুলি শামিম (৪৫), সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটের দ্বিতীয় তলার গ্লোবাল কম্পিউটারের পরিচালক ও শহরের মুন্সিপাড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে সারোয়ার সারফারাজ (৩২) এবং একই মার্কেটের নিচতলার ফাতেমা কম্পিউটারের কর্মচারী আরিফ হোসেন (৩০)। সে মুন্সিপাড়ার আইনুল হকের ছেলে।
এসময় দুদকের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়ে স্টেসনের কুলি সর্দার আব্বাস (৪৫) এবং
মুন্সিপাড়ার ইলিয়াস প্রামাণিকের ছেলে ও ফাতেমা কম্পিউটারের মালিক মতিয়ার রহমান (৩০)। তাদের মোবাইলে বার বার কল দিলেও কোন সাড়া দেয়নি এবং বাড়িতে অভিযান চালিয়েও পাওয়া যায়নি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুরের সহকারী পরিচালক সাফদারুল ইসলাম। তার সাথে ছিলেন উপ-পরিচালক নুরে আলম সিদ্দিক, জয়ন্ত শাহা, রুবেল হোসেনসহ সৈয়দপুর থানার দুইজন এসআই ও রেলওয়ে থানার এসআই মিন্টু আহমেদ।
দুদক টিম সকাল ৮ টায় স্টেসনে ও আশেপাশে যাত্রী বেশে খোঁজ খবর নিয়ে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী প্লাজা মার্কেটের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সারোয়ার ও আরিফকে আটক করে। তাদেরকে নিয়ে স্টেসন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামিম কে আটক করে। তার কাছে সৈয়দপুর থেকে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্টেনের আগামীতে ১৩ অক্টোবরের দুই সিটের একটি টিকিট পাওয়া যায়। পরে তাদের স্টেসন কর্তৃপক্ষের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।
আটককৃতদেরসহ সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেসনের দায়িত্বরত স্টেসন মাস্টার টুটুল চন্দ্র সরকার, বুকিং সহকারী মাহবুবুর রহমান, ইশিতা পারভিনকে সরাসরি এবং স্টেসন মাস্টার শওকত আলী কে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক। তারা সিসি ক্যামেরা নষ্ট, এনআইডি নেয়ার যৌক্তিকতা এবং কালোবাজারিদের কাছে টিকিট বিক্রির ব্যাপারে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
আটক শামীম জানায়, সে সোমবার সকালে কাউন্টারের একজনের কাছ থেকে টিকিট কিনে নিয়েছে। পরে বেশি দামে বিক্রি করবে। এই কাজ করেই সে সংসার চালায়। সে আরও জানায়, তার কাছ থেকে আটক কম্পিউটার দোকানদাররাসহ অনেকেই টিকিট নেয়। আবার তাদের কাছ থেকেও সে কিনে। সেসহ কুলি সর্দার আব্বাস ও রুবেল নামে এক মাছ ব্যবসায়ীও একইভাবে টিকিট কালোবাজারি করে। এদের সবার লিংক রয়েছে।
দুদক সহকারী পরিচালক সাফদারুল ইসলাম জানান, টিকিট নিতে যে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (এনআইডি) নেয়া তা দিয়ে কেন নির্ধারণ করা যায়না যে কোন এনআইডি'র বিপরীতে কোন টিকিট দেয়া হয়েছে। তাহলে সংশ্লিষ্ট সফটওয়ারের কার্যকারীতা কি? জনগণের সাথে শুধু প্রতারণা করা হচ্ছে এই অজুহাতে।
তাছাড়া সিসি টিভি ক্যামেরা নষ্টের অজুহাতে কালো বাজারিদের টিকিট দিতে সহায়তা করছে স্টেসনের দায়িত্বরতরা। কেননা তারা অনেকে তিন চার বছর ধরে একইস্থানে কর্মরত। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে আটক তিনজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য স্টেসন মাস্টারকে হস্তান্তর করা হলো।
দোষ স্বীকার এবং ভবিষ্যতে আর এই অপকর্ম না করার অঙ্গিকার করায় মূলতঃ মানবিক কারণেই তাদের আপাতত ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অভিযানে সাধারণ জনগণ কোন তথ্য দিতে চায়নি এবং স্টেসন কর্তৃপক্ষও আন্তরিক নয় বলে মন্তব্য করেন দুদকের কর্মকর্তারা। সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই কাজ করেছেন এবং সফলও হয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেসনে টিকিট কালোবাজারি চরম আকার ধারন করেছে। এর প্রতিবাদ করায় গত মাসে একজন নারী যাত্রীকে আটকে রেখে লাঞ্ছিত করে বুকিং সহকারীসহ স্টেসনের কর্মচারীরা। এঘটনায় সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি সারাদেশে চাউর হলে বুকিং সহকারী রনিকে পাকসীতে বদলী করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের অভিযান চালায় দুদক