পুণ্যভুমি প্রতিবেদক
অগাস্ট / ২৭ / ২০২২
অবশেষে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চা-বাগান মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ১৩ জনের উপস্থিতিতে বৈঠকে এ নতুন এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়।
শনিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে গণভবনে এ বৈঠক শুরু হয় বিকেল ৪ টায়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব জানান, চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চা শ্রমিকেরা অন্যান্য যেসব সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন সেগুলোও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের কাজে যোগদান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই শ্রমিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে ৯ আগস্ট থেকে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি এবং পরে ১৩ আগস্ট অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন চা শ্রমিকরা। ধারণা করা হচ্ছে এতে দৈনিক ক্ষতি হয়েছে ২০ কোটি টাকা। প্রশাসন থেকে শুরু করে চা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা শ্রমিকদের কাজে যোগদান করতে নানা কৌশল ও বৈঠক করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ছাড়া কাজে যোগদান করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শ্রমিকেরা।
মুখ্য সচিব বলেন, দৈনিক ১৭০ টাকা সর্বনিম্ন মজুরির সঙ্গে বোনাস, বার্ষিক ছুটি ভাতা আনুপাতিক হারে বাড়বে। বেতনসহ উৎসব ছুটি আনুপাতিক হারে বাড়বে। অসুস্থতাজনিত ছুটির টাকা ও ভবিষ্যত তহবিলে নিয়োগকর্তার চাঁদা আনুপাতিক হারে বাড়বে। বার্ষিক উৎসব ভাতাও আনুপাতিক হারে বাড়বে।
সব মিলে ন্যূনতম মজুরি দৈনিক প্রায় সাড়ে ৪শ থেকে ৫শ টাকা পড়বে বলে জানান তিনি।
মুখ্য সচিব জানান, চা শ্রমিকদের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। শিগগিরই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা করবেন।প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল (রোববার) থেকেই সবাইকে কাজে যোগ দিতে বলেছেন।
এদিকে ভরা মৌসুমে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের টানা ১৭ দিনের আন্দোলনের কারণে কয়েকশ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে চা শিল্পে। শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রথম দিকে সব চা বাগানে উত্তোলন করা কাঁচা চায়ের পাতা সময়মতো প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় পচে ও শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
এ ছাড়া চা প্ল্যান্টেশন এলাকা থেকে কচি চা পাতা তুলতে না পারায় সেগুলোও এক থেকে দেড় ফুট লম্বা হয়ে গেছে। এ পাতা চায়ের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব নয়।