আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট ১ আসনের এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেন এর জন্মদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অগাস্ট / ২৩ / ২০২২

আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. এ কে আব্দুল মোমেন এর জন্মদিন
ad-spce

যাদের কাজ, চিন্তা ও মূল্যবোধ মানুষের জীবনকে গভীরভাবে স্পর্শ করে যায়, তারা মানুষের জীবন ও চেতনায় থেকে যান সারাজীবন।
ড. এ. কে আব্দুল মোমেন তাদেরই একজন। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খানের আহ্বানে রাওয়ালপিণ্ডিতে রাউন্ড টেবিল বৈঠকে যোগদান করেন।
সে সময়ে ড. মোমেন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক সহকারী।
আর ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে তার প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘে পাঠান।
অধ্যাপক ড. এ. কে আব্দুল মোমেন ১৯৪৭ সালের আজকের দিনে (২৩ আগস্ট) সিলেট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ ছিলেন বরেণ্য রাজনীতিক, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী। ড. মোমেন হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমপিএ এবং নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় (বোস্টন) থেকে এমবিএ ও অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।
এর আগে তিনি সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন, আর এইচএসসি পাশ করেন এমসি কলেজ থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স ও এমএ ডিগ্রী নেন; আইন শাস্ত্রে এলএলবি ডিগ্রীও অর্জন করেন তিনি। মেধাবী হওয়ায় শিক্ষাজীবনের প্রতিটি স্তরেই লাভ করেন বিভিন্ন ধরনের স্কলারশীপ।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাবস্থায়ই তিনি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে জুনিয়র অফিসার হিসাবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ২৩ মার্চের পর কাজ ছেড়ে চলে যান। বাংলাদেশ দখলদার মুক্ত হলে পরে তিনি তৎকালীন আঞ্চলিক প্রশাসক দেওয়ান ফরিদ গাজীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেন। পরে তিনি নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন।
টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনার নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ড. এ কে আবদুল মোমেন। বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তিনি দায়িত্ব পালনকালেই বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর মর্যাদা লাভ করে। এ সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ মহিলা শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং নেভাল ফোর্স পাঠানো শুরু করে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ড. মোমেন। বাংলাদেশ বিরোধপূর্ণ ওই সমুদ্রসীমা বিজয় করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ ড. মোমেন।
তিনি জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কো অপারেশনের উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। ৬৭তম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপ-সভাপতি এবং সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জাতিসংঘে যোগ দেয়ার আগে ড. মোমেন জাতিসংঘের পিস বিল্ডিং কমিশনের সভাপতি ছিলেন। তিনি ফ্রামইংহাম স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৩ সালে সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অর্থনেতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
ড. মোমেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার, দ্য সালেম স্টেট কলেজ, মেরিম্যাক কলেজ, ক্যামব্রিজ কলেজ, কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি মেম্বার ছিলেন।
১৯৭৮ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ফোর্ড ফাউন্ডেশন এবং মেশন ফেলো হিসেবে উচ্চশিক্ষা নেয়ার আগে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
এছাড়া সময়ে সময়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত ছিলেন।
ড. মোমেন একজন লেখক ও কলামনিস্ট। তিনি ৪টি বই এবং ২৫০টির ওপর গবেষণাপত্র লিখেছেন।
তিনি অর্থনীতি এবং ব্যবসা প্রশাসনে নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (বোস্টন) থেকে ডক্টরেট এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে লোক প্রশাসন, পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিক্সে এমপিএ করেন।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিএ ও এমএ করেন।
ড. মোমেন এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের অর্থ ও জাতীয় অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রকল্পে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া তিনি ১৯৯৩, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের শিশু শ্রম, শিশুকে জকি হিসেবে ব্যবহার এবং শিশু পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তাঁর নিরন্তর প্রয়াসের ফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আদম পাচার সম্পর্কিত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি হয়েছে।
সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সোচ্চার ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। এরপর স্বাধীন দেশেও নতুন সরকারের অধীনে যুক্ত হন। কিন্তু ১৯৮২ সালে তাকে বরখাস্ত করা হয় বিশেষ সামরিক অধ্যাদেশ (৯) জারির মাধ্যমে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ড. মোমেন। দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
পরিশেষে দৈনিক পুণ্যভূমি পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জন্মদিনে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করেন পত্রিকার প্রকাশক ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী ও সম্পাদক আবু তালেব মুরাদ।

ad-spce

জাতীয়

ad-spce

সর্বশেষ আপডেট

গুণীদের কদর না করলে কখনোই সমাজে গুণীরা তৈরি হয় না : ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ভারতে সিলেট রত্ন উপাধিতে ভূষিত দেবাশীষ দে পল্লব

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি দল

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জি কে মাসুক

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

রুকনুজ্জামান চৌধুরীর পিতৃবিয়োগে ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরীর শোক

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মাওলানা মুহিব্বুল হকের মৃত্যুতে ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী'র শোক

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত : সভাপতি শামসুল আলম সেলিম, সাধারন সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বিশ্বনাথে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

১৭৫ কিলোমিটার বেগে তাণ্ডব চালাতে পারে মোখা, যেসব জেলাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সিলেট লেখক ফোরামের উপদেষ্টা হলেন ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী

জুলাই / ০৬ / ২০২২
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ad-spce